রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলা হাটে বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গোসল করানোর সময় খাটিয়ার ভেতর অন্য এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে এই হৃদয়বিদারক ও অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম, পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনকের প্রামানিক, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন। আর আহতের নাম পুঠিয়া উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল উদ্দিনের ছেলে রায়হান আলী।
বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ঝলমলিয়া বাজারে কলা বেচাকেনার স্থানে একটি বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাটের ভেতর উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং পরে আরও ২ জন মারা যান। পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা একজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
গোসল করাতে গিয়ে মিলল অতিরিক্ত পা
ঘটনার নাটকীয় মোড় ঘোরে যখন বাগাতিপাড়ার নিহত সেন্টুর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ঝন্তু জানান, মরদেহ গোসলের প্রস্তুতির জন্য ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া প্যাকেট খুলতেই তিনি মরদেহের সঙ্গে একটি বিচ্ছিন্ন পা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার ও পুলিশকে জানানো হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, "মুয়াজ্জিনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। পরে পুলিশ আমাদের জানায় যে, দুর্ঘটনায় আহত অন্য এক ব্যক্তির পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যা ভুলবশত এই মরদেহের প্যাকেটে চলে এসেছে।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন পা-টি পুঠিয়া বানেশ্বরের খুঁটিপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী রায়হান হোসেনের। দুর্ঘটনায় রায়হানের এক হাতের কব্জি এবং দুই পা-ই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
রায়হানের ভাতিজা অনিক জানান, তারা বিচ্ছিন্ন পা-টি হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন সেটি বাগাতিপাড়ায় সেন্টুর বাড়িতে আছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পা-টি সংগ্রহ করতে রওনা দিয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সাথে মরদেহের সাথে পা চলে আসার ঘটনায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিচ্ছিন্ন দেহাংশটি প্রকৃত মালিকের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।